সিরিয়ার জিওগ্র্যাফিক্যাল লোকেশান, ঐতিহাসিক পার্সপেক্টিভ, মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতা দখল আর ইনফ্লুয়েন্স ইত্যাদি্র কারনে সিরায়ার ক্ষমতায় কে আছে আর কে থাকবে তার গুরুত্ব অনেক। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এই মুহূর্তে তিনটি অভ্যন্তরিন দল জড়িত। এক, ক্ষমতাসিন আলাওয়াইট আসাদ এবং তার বাহিনী আর শিয়া মিলিশিয়া বাহিনী। দুই, আসাদকে হটাতে যুদ্ধরত সুন্নি বিদ্রোহী যারা ফ্রি সিরিয়ান আর্মি নামে পরিচিত। তিন, আসাদ এবং ফ্রি সিরিয়ান আর্মি বিরোধী কট্টরপন্থী সুন্নি আইএসআইএস। মেজর যে ৪ টি দেশ এই কনফ্লিক্ট এ জড়িয়ে পড়েছে তারা হোল আমেরিকা, রাশিয়া, ইরান, আর সৌদি আরব। এছাড়াও আরও দুটি দেশ এই যুদ্ধে ভুমিকা রাখছে, তারা হলো তুরস্ক এবং ইসরায়েল।
আমেরিকা
এরা চায় আসাদের পতন। তারা সিরিয়ার আসাদ বিরোধী বিদ্রোহীদের সাপোর্ট করছে এবং এন্টাই আইএসআইএস। আমেরিকার মিলিটারি অল্প সংখ্যক বিদ্রোহীদের ট্রেইনিং দিলেও তা কার্যকরী হয় নি। প্রথমত কাদের ট্রেইনিং দেয়া হবে সেই বাছাই প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত লম্বা। তারপরেও যাদেরকে ট্রেইনিং দেয়া হয়েছিল তাদের বেশির ভাগই ট্রেইনিং শেষে অস্ত্র নিয়ে হয় দিক পরিবর্তন করেছে না হয় হারিয়ে গেছে। উপরন্তু সিআইএ ৪ থেকে ৫ হাজার বিদ্রোহীকে ট্রেইনিং দিয়েছে, যারা এখনো মাঠে আছে। আর আছে কুর্দিরা, যাদেরকেও আমেরিকা সাপোর্ট দিচ্ছে। আমেরিকা এখন বলছে যে রাশিয়া আইএসআইএস নয় বরং এই ট্রেইন্ড বিদ্রোহীদেরই আগে শেষ করার চেষ্টায় আছে। উপরন্তু এই সংখ্যা আসাদকে হটানোর জন্য মোটেও পর্যাপ্ত না। তাহলে আমেরিকা এখন কি করবে? তারা এখন দুটা কাজ করবে। এক, তাদের পছন্দের গ্রুপকে অস্ত্র আর ইকুইপমেন্ট সাপ্লাই দিবে, যাদের মধ্যে আছে ব্যাটেল হার্টেন্ড কুর্দিরা। আর দিবে এয়ার সাপোর্ট। সাথে চলবে ডিপ্লোমেসি আর প্রচারনা। দুই, তারা রাশিয়াকে হটাতে জোরদার ভাবে মাঠে নামবে না বরং রশিয়ার যুদ্ধ করে দুর্বল হওয়ার অপেক্ষায় থাকবে। আমেরিকা ভাল করেই জানে যে সিরিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ করার মতন অর্থনৈতিক সক্ষমতা রাশিয়ার নেই। তেলের দাম এখন অনেক কমেছে, যা রাশিয়ার অর্থনীতির উপরে প্রভাব ফেলেছে। মেজর তেল সাপ্লায়ার সৌদি আমেরিকার কুক্ষগত টু কন্ট্রোল ওয়েল প্রাইস। তাই তারা যুদ্ধটাকে যে করেই হউক দীর্ঘস্থায়ী করবে। আমেরিকার এখানে লম্বা রেসের ঘোড়া। শেষ খেলাটা এরাই খেলবে।
রাশিয়া
মনে রাখা জরুরী এই রাশিয়া আগের সেই সোভিয়েত ইউনিয়ন নয়। অলরেডি ইউক্রেন ফ্রন্টে রাশিয়া ব্যস্ত, আর মাল্টিপল ফ্রন্ট এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর মতন অর্থনৈতিক সক্ষমতা রাশিয়ার নেই। কিন্তু তারপরেও পুতিন এখানে ঘটা করেই যুদ্ধে জড়াল। কেন? কারন একটাই, মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ান ইনফ্লুয়েন্স। আর ডামাস্কাস হচ্ছে পুতিনের লাস্ট ফ্রন্টিয়ার। আসাদের পতন মানে মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার আর তেমন কোন বন্ধু রাষ্ট্র থাকবে না। আসাদ রেজিম হচ্ছে রাশিয়ার পুরাতন বন্ধু। বন্ধুর চূড়ান্ত বিপদেও যদি রাশিয়া পাশে না থাকে, তাহলে তারা এবার সিরিয়াসলি তাদের ক্রেডিবিলিটি হারাবে। উল্লেখ্য এই যুদ্ধে হেরে গেলে আন্তর্জাতিক বিষয়ে রাশিয়ার কথা বলার ক্ষমতা আর ইনফ্লুয়েন্স অনেক কমে যাবে। ইটস এ হাই স্টেক গ্যাম্বলিং ফর দেম। উল্লেখ্য সিরিয়ার উপকুলবর্তি টারটুসে আছে রাশিয়ার ন্যাভাল বেইস (ছবি), যার দরুন আমেরিকার নেভি এখন পর্যন্ত সিরিয়ার উপকুলে ভিড়তে পারে নি। যদিও রাশিয়া বলছে যে তারা আইএসআই কে ধ্বংস করতে গেছে, বাট মেইক নো মিস্টেক যে তারা আসাদ বিরোধীদেরকেই ধ্বংস করতে গেছে, যাদের মধ্যে আছে আমেরিকা আর সৌদি সাপোর্টেড ফ্রি সিরিয়ান আর্মি বা বিদ্রোহীরা। এই মুহূর্তে তারা আইএসআইএস স্ট্রং হল্ড একটা শহরকে এট্যাক করলে, করছে আসাদ বিরোধীদের স্ট্রং হল্ড দুইটা শহরকে।
সৌদি আরব
ইরানে সাপোর্টেড আসাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে আছে সৌদি আরব, আঞ্চলিক গেইমের অন্যতম প্রধান পাওয়ার। আর সৌদি সরকার আমেরিকার শক্ত এলাই। এই মুহূর্তে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স হচ্ছে আমেরিকার এফবিআই ট্রেইন্ড, যাকে আমেরিকার ডিপ্লোম্যাটিক কমিউনিটিতে ডাকা হয় “প্রিন্স অফ কাউন্টার টেরোরিজম”। আমেরিকান সরকারের খুব কাছের এবং অত্যন্ত পছন্দের লোক। গত দুই বছর সৌদি আরব আমেরিকা থেকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র আর সরঞ্জামাদি কিনেছে। আমেরিকা সৌদি আরবের কাছে এমন অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি আর অস্ত্র বিক্রি করেছে যা এখন পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে পর্যন্ত দেয়নি। সৌদি আরব শিয়া ক্ষমতার ঘোর বিরোধী। আমেরিকার নিষেধ থাকা স্বত্বেও তারা ইয়েমেন এর শিয়া দমনে বম্বিং করতে পিছপা হয় নি। যাতে নিরীহ মানুষ পর্যন্ত মারা গেছে, যা সৌদি সরকারের কাছে কো-লেটারেল ডেমেজ বলেই গন্য। এই সৌদি সরকারও সিরিয়ান বিদ্রোহীদের অস্ত্র সাপ্লাই দিচ্ছে। সৌদি আরব রিসেন্টলি ৫০০ TOW Missile (ইউএস মেইড) বিদ্রোহীদের দিয়েছে, যা বিদ্রোহীদের জন্য এক মারাত্মক অস্ত্র হিসাবে কাজ করবে। এই মিসাইল আসাদ বাহিনীর ট্যাঙ্ক, আর্মারড ক্যারিয়ার, অন্যান্য ভেহিক্যাল ধংসে মুখ্য ভুমিকা রাখেব। সম্প্রতি সৌদি সরকার ঘোষণা দিয়েছে, “ প্রেসিডেন্ট আসাদ ক্ষমতা না ছাড়লে সৌদি আরব নিজেই মিলিটারিলি সিরিয়াকে এট্যক করবে এবং আসাদ ক্ষমতাচ্যুত না হওয়া পর্যন্ত তারা থামবে না।“
ইরান
এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড়, আসাদের ঘোরতর সাপোর্টার, যারা অত্যন্ত ধৈর্য আর বিচক্ষন্তা দিয়ে খেলছে এই পুরা গেইম। ইরানের রেভ্যুলুশানারি গার্ড ফোর্স, গ্রাউন্ড ফোর্স, কুডস ফোর্স আসদের মিলিটারিকে বিভিন্নভাবে ট্রেইনিং করছে। ইরানের ইন্টালিজেন্স এন্ড সিকিউরিটি সার্ভিস আসাদকে পুরাদমে সাহায্য করছে। এমন কি তাদের রেভ্যুলুশানারি গার্ড ফোর্স ইজ অন দ্যা সিরিয়ান গ্রাউন্ড ইন সাম ক্যাপাসিটি। তারাও আসাদকে আর্মস এন্ড এম্যুনিশান সাপ্লাই দিচ্ছে। এছাড়াও ইরান সিরিয়ার প্রো-আসাদ শাবিহা মিলিশিয়াদেরকেও ট্রেইনিং আর সাপোর্ট দিচ্ছে। যদি কোন কারনে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হয় তাহলে তেহরান এদের মাধ্যমে সিরিয়ায় তাদের ইনফ্লুয়েন্স ধরে রাখতে চায়। আসাদকে সাপোর্ট দিচ্ছে লেবানিজ হেজবোল্লাহ সাপোর্টেড আবু-আল ফাদল আল আব্বাস ব্রিগেড আর ইরাকের শিয়া মিলিশিয়ারা, যাদের উপর আছে ইরানের ইনফ্লুয়েন্স। ইরানের আল্টিমেট গোল হল মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ইনফ্লুয়েন্সাল আঞ্চলিক পাওয়ার হওয়া। তার জন্য যা করার দরকার আর যেভাবে খেলার দরকার ইরান সেভাবেই খেলছে।
এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড়, আসাদের ঘোরতর সাপোর্টার, যারা অত্যন্ত ধৈর্য আর বিচক্ষন্তা দিয়ে খেলছে এই পুরা গেইম। ইরানের রেভ্যুলুশানারি গার্ড ফোর্স, গ্রাউন্ড ফোর্স, কুডস ফোর্স আসদের মিলিটারিকে বিভিন্নভাবে ট্রেইনিং করছে। ইরানের ইন্টালিজেন্স এন্ড সিকিউরিটি সার্ভিস আসাদকে পুরাদমে সাহায্য করছে। এমন কি তাদের রেভ্যুলুশানারি গার্ড ফোর্স ইজ অন দ্যা সিরিয়ান গ্রাউন্ড ইন সাম ক্যাপাসিটি। তারাও আসাদকে আর্মস এন্ড এম্যুনিশান সাপ্লাই দিচ্ছে। এছাড়াও ইরান সিরিয়ার প্রো-আসাদ শাবিহা মিলিশিয়াদেরকেও ট্রেইনিং আর সাপোর্ট দিচ্ছে। যদি কোন কারনে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হয় তাহলে তেহরান এদের মাধ্যমে সিরিয়ায় তাদের ইনফ্লুয়েন্স ধরে রাখতে চায়। আসাদকে সাপোর্ট দিচ্ছে লেবানিজ হেজবোল্লাহ সাপোর্টেড আবু-আল ফাদল আল আব্বাস ব্রিগেড আর ইরাকের শিয়া মিলিশিয়ারা, যাদের উপর আছে ইরানের ইনফ্লুয়েন্স। ইরানের আল্টিমেট গোল হল মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ইনফ্লুয়েন্সাল আঞ্চলিক পাওয়ার হওয়া। তার জন্য যা করার দরকার আর যেভাবে খেলার দরকার ইরান সেভাবেই খেলছে।
.
মোট কথা সিরিয়ার মাটিতে রাশিয়ার সাম্প্রতিক যুদ্ধে ওই অঞ্চল আরও আনস্টেবল হয়ে গেলো। প্রতিটি ইনভল্ভড দেশ, বিশেষত আমেরিকা আর রাশিয়া প্রচুর প্রোপাগান্ডা চালাবে। যুদ্ধ ময়দানের অবস্থা অনুযায়ী সবগুলো ইনভল্ভড দেশ তাদের স্ট্র্যাটেজি ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন করবে, কিন্তু আল্টিমেট গোল ঠিক রাখবে। আবারও বলছি শেষ খেলা খেলবে আমেরিকা, আর ইরান তার ইনফ্লুয়েন্স যেভাবেই হউক, যে ক্যাপাসিটিতেই হোক ধরে রাখবে।
মোট কথা সিরিয়ার মাটিতে রাশিয়ার সাম্প্রতিক যুদ্ধে ওই অঞ্চল আরও আনস্টেবল হয়ে গেলো। প্রতিটি ইনভল্ভড দেশ, বিশেষত আমেরিকা আর রাশিয়া প্রচুর প্রোপাগান্ডা চালাবে। যুদ্ধ ময়দানের অবস্থা অনুযায়ী সবগুলো ইনভল্ভড দেশ তাদের স্ট্র্যাটেজি ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন করবে, কিন্তু আল্টিমেট গোল ঠিক রাখবে। আবারও বলছি শেষ খেলা খেলবে আমেরিকা, আর ইরান তার ইনফ্লুয়েন্স যেভাবেই হউক, যে ক্যাপাসিটিতেই হোক ধরে রাখবে।
.
ইন দ্যা মিন টাইম, দিস ইজ গোইং টু বি এ প্রোলংড ওয়ার আর এই যুদ্ধে প্রচুর মানুষ মরবে।
ইন দ্যা মিন টাইম, দিস ইজ গোইং টু বি এ প্রোলংড ওয়ার আর এই যুদ্ধে প্রচুর মানুষ মরবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন